আসিফ-হারিয়ে যাওয়া প্রিয় শিল্পী

..............
আসিফ !
একটি নাম নয় শুধু,
একসময় গোটা প্রজন্মের
সবচেয়ে বড় আবেগ
ছিল ।
সম্ভবত ২০০০ সালে
"ও প্রিয়া তুমি কোথায় "
গানটির মাধ্যমে বাংলা সঙ্গীত জগতে আসিফ নামক নীলপদ্মের জন্ম হয়েছিল ।
পরবর্তী এই শিরোনামে একটা সিনেমা নির্মিত হয়েছিল
শাবনুর,রিয়াজ,শাকিব খানকে নিয়ে ।
ত্রিমুখী প্রেমের সেই
সিনেমার মূল গান ছিল
আসিফেরই ও প্রিয়া তুমি কোথায়-
সেই থেকে আসিফের
উত্থান ।
হ্যাংলা চ্যাংড়া পাতলার সেই ছেলেটির "ও প্রিয়া তুমি কোথায়" আজ অবধি ৫০ লাখ
কপি বিক্রি হয়েছে ।
যা বাংলা সংগীত জগতের ইতিহাসে আর একটিও
নেই ।
আসিফের কন্ঠ প্রাকৃতিক,
অটোটিউন বা চুরি
চামারি,কপিবাজি আসিফ কোনদিন করেনি ।
হালের শিল্পী হাবিব,ইমরান,পড়শি হেন তেন বালছাল যাদের কারনে
প্রজন্ম আসিফকে ভুলে গেছে এরা প্রত্যেকটা একেকটা চোর ।
সুর,লিরিক্স,বাজনা চুরি করে এরা বাংলা সঙ্গীতকে চোরা সঙ্গীতে পরিণত করেছে ।
কিন্তু আসিফ সবার থেকে সেরা ।
নিজস্ব ভঙ্গিমাতেই সে মন
জয় করেছিল সবার ।
২০০০ সালের পর
এমন কোন সত্যিকার প্রেমিক/প্রেমিক নেই যারা আসিফের গান শোনেনি ।
এখন তাদের অনেকেই আসিফকে চোখে দেখতে পারেনা,
আসিফের গান শুনলে তারা নাক সিঁটকায় ।
হালের প্রজন্ম আসিফকে
ক্ষ্যাত শিল্পী ভাবে ।
এরা শিকড়হীন
অপপ্রজন্ম ।
বিশ্বাস করুন,
এদের দ্বারা এই জাতির
এতোটুকু উপকার
হবেনা ।
সবার মুখে মুখে থাকতো
আসিফের গান ।
ঘরে-বাইরে,দোকানে-শপিংমলে,
পিকনিকে-পার্টিতে,বিয়েতে-উত্‍সবে,শহর-মফস্বল
কিংবা প্রান্তিক গ্রামে
আসিফের ভরাট কন্ঠের গান
শীর্ষে থেকেই বাজতো ।
সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া
স্কুলগামী ছেলে ও মেয়ে,
তরুণ ও তরুণী,
বাচ্চা কাচ্চা পর্যন্ত
আসিফের কন্ঠস্বরে
মেতে থেকেছে ।
এখন যে ছেলেটি বা
মেয়েটি ৩০ বছর পার
করেনি সে আসিফের একটা গানও পছন্দ করেনি কখনো এটা বললে চরম মিথ্যাচার
হবে ।
অথচ এই মিথ্যাবাদী,
এই অস্বীকারকারীদের সংখ্যা অজস্র এ বঙ্গে ।
এই শিকড়হীন প্রজন্ম
এখন আসিফকে ভুলে
গেছে ।
আসিফের গান শুনলে নাকি তাদের ইশমার্টনেস কমে যায়,
কিশোরী মেয়েরা,যুবতী তরুণীরাও নাকি এখন
আসিফের গান শোনা ছেলেটির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে
নেয়,
এদের ইশমার্টনেসের প্রতিক হয়ে গেছে অরজিত শিং,
হানি শিং ।
ভারতীয় লেটেশ্ট মুভির রগরগা গান নাকি ইনাদের ইশমার্টনেসকে আকাশচুম্বী করে দেয় ।
কি এক বিশ্রী একটা
জাতীয়তাবোধহীন
প্রজন্ম বেড়ে উঠছে,
ভাবা যায় !
আসিফের-
পাথরে লেখা নাম,
নিষ্ঠুর প্রিয়তমা,
আমার দুঃখ সারিসারি,
জ্বালা জ্বালা,বাঁচবো না,
ও পাষাণী এমন ভরাট
কন্ঠের অদ্ভুত চমত্‍কার
গান আর কে গায় এখন ?
শুধুমাত্র সংস্কৃতি
বিপর্যস্ত এই তরুণ
তরুণীরা আসিফকে ভুলে যেতে পারে ।
তার এমন সব বাস্তবিক
জীবন ছাপের গানকে তারাই শুধু ক্ষ্যাত গান বলতে পারে ।
আমি এদেরকে বেশ্যা
বলি ।এরা উন্নত স্তরের
বেশ্যা ।একদল
সংস্কৃতিবিহীন নারী
বেশ্যা আরেকদল পুরুষ
বেশ্যা ।
তুমিই মনে রাখোনি,
তুমিই ভালবাসনি,
নষ্ট ছেলে,বাতাসে প্রেম
উড়িয়ে দিও,
কেউনা জানুক,মনে কি
পড়েনা,অপরূপা,
তুই যদি মোর চন্দ্র হতি,
পোড়া কাগজ,অভিনয়,
হারানো সাথী-
এমন অসংখ্য গান দিয়ে
আসিফ মন জয় করে
নিয়েছিল গোটা একটা
প্রজন্মের ।
এই প্রজন্মটা ছিল
সংস্কৃতি প্রিয়,
এরা এখনো আসিফের
গান শোনে,আসিফকে
ভালবাসে,
এরা শিকড়হীন না ।
আমার বয়সী ছেলে কিংবা
মেয়ে আসিফের
"তুমি হারিয়ে যাবার
সময় আমায় সঙ্গে নিও"
গানটি গায়নি এটা
ভাবাই যায় না ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে সবচেয়ে মাতানো গান "বেশ
বেশ বেশ সাবাশ বাংলাদেশ"
গানটি আসিফই
গেয়েছে ।
শিল্পী আসিফের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বোধহয়
রাজনীতিতে জড়িয়ে
পড়ে ।বড় হওয়ার জন্য এদেশে রাজনীতি হচ্ছে একটা বড় ফ্যাক্ট ।
এই ফ্যাক্টের বিপরীতে
পড়ে গেছে আমাদের প্রিয়
শিল্পী আসিফ ।
তিনি যদি রাজনীতিকে
না বলতেন তাহলে এখন তাকে হারিয়ে যেতে হয়তো
হতো না ।
সেটা ভিন্ন কথা ।
রাজনীতি ও শিল্পী দুটো
আলাদা জগত ।
রাজনৈতিক আসিফ
এখনো আছে কিন্তু আমার
হৃদয় কোঠায় জায়গা পাওয়া আমাদের প্রিয় শিল্পী
আসিফ হারিয়ে গেছে ।
এর জন্য দায়ী এদেশের
জাতীয়তাবোধহীন
গণ মাধ্যম,প্রজন্ম ।
গণ মাধ্যম এতো
পরিমাণ বিদেশী সংস্কৃতির
দালালী করেছে যে আমাদের সংস্কৃতি বিপর্যস্ত হয়ে গেছে,
পদতলে পিষে ফেলেছে
প্রজন্ম ।
হারিয়ে গেছে কত প্রিয়
শিল্পী,আসিফ,হাসান,
শান্ত,এসডি রুবেল,
বিপ্লব আরো কতজন ।
সে কথা অন্য একদিন
হবে ।
শিকড় ত্যাগী,অকৃতজ্ঞ
এই প্রজন্ম আসিফকে
ভুলে যাওয়ার ভাণ
ধরেছে ।
এই তো সেদিন যে
ছেলেটা
"বুকের জমানো ব্যথা"
গেয়ে গেয়ে সময়
কাটিয়েছে,এখন ইশমার্ট
হয়ে,"আসিফ ? হু দ্যা
হেল হি ইজ" বলে ।
অথবা কেউ বা যারা
আসিফের গান এখনো
শোনে তাদের দেখে
নর্দমার কীট এই
শিকড়ত্যাগী প্রজন্ম
টিটকারী মারে,
হাসাহাসি করে ।
প্রকৃতপক্ষে,
এদেশের হিন্দীপ্রেমী
ঐ অপপ্রজন্মটারই হাসির
খোরাক হওয়ার কথা
কিন্তু জাতীয়তাবোধহীন
মিডিয়া সে ব্যবস্থা করতে
ব্যর্থ হয়েছে ।
ফলে আসিফ পাগলী
স্কুল,কলেজ,ভার্সিটির
মেয়েটিও এখন
অকৃতজ্ঞের মতো আসিফকে
অস্বীকার করে শিং টিং
দের নিয়ে মেতে
থাকে ।
শেষ কথা এটাই যে,
এই দেশের অডিও
জগতে আসিফ একজন
সত্যিকার শিল্পী,
চুরি চামারি নয়,
যন্ত্র নয় শুধু কন্ঠ
দিয়েই এ দেশ
মাতিয়েছিল ।
আজো আমার অথবা
আমাদের প্রত্যেকটা
গানপ্রেমী সত্যিকার
দেশপ্রেমিকদের কাছে
আসিফ প্রিয়শিল্পী হয়ে
আছে ।
আমাদের হৃদয়ে আসিফ
ছিল,আছে,থাকবে ।
ভালবাসা ও ভাললাগার
প্রিয় আসিফ,
ভাল থাকবেন সবসময়
আমাদের প্রিয় শিল্পী আসিফ
ভাই ।। <3
আমার খুব প্রিয় একটা
গান,প্রায়ই শুনি-
এখনো মাঝে মাঝে
মাঝরাতে ঘুমের ঘোরে
শুনি তোমার পায়ের আওয়াজ
যেনো তুমি এসেছো ফিরে-
তুমি চলে গেছো অনেকদূরে
এই মনের আঙিনা ছেড়ে...

Comments

Popular posts from this blog

ফিঙ্গারিং

বাঁকা লিঙ্গ সোজা করার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ টিপস

☬ রক্তদানের ১৩০ টি স্লোগান ☬