ড.জাফর ইকবাল ইস্যু।
আবারও সমসাময়িক ইস্যুতে মগ্ন পুরো দেশবাসী, ফেসবুকের কিবোর্ডে তোলপার শুরু করে দিয়েছে এই #জাফর_ইকবাল ইস্যু। এসব নিয়ে আর কথা বলতে ইচ্ছে করে না, তারপরও কিছু সুশীল, মানবতা দরদী আপু/ভাইয়াদের মানবতার উদারতা দেখে আমিও বাধ্য হলাম কিবোর্ডে হাত রাখতে।
প্রথমত, স্যার জাফর ইকবাল নিঃসন্দেহে একজন সফল সাহিত্যিক (যদিও তার নামের সাথে কপিবাজ শব্দটি লেগে আছে) সাথে বৈজ্ঞানিক, সুশীল ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী, বুদ্ধিজীবী এবং একজন প্রথম শ্রেনীর নামকরা অধ্যাপকও বটে। সেই হিসেবে এদেশে তার লক্ষ লক্ষ শিষ্য রয়েছে। আবার তার হেটার্সের পরিমাণও তুলনামূলক অনেক বেশি। এটা অস্বাভাবিকের কিছু নয়। যার ভক্ত আছে তার শত্রু থাকবেই। কম আর বেশি এই যা!
দ্বিতীয়ত, তিনি এর আগেও টুকটাক হামলার শিকার হয়েছিলেন তাও আবার ছাত্রলীগ কতৃক। তবে এবারের হামলাটা তুলনামূলক একটু বেশিই মর্মান্তিক এবং বির্তকিতও বেশি। এই হামলার পর একদিকে যেমন তার ভক্তদের আহাজারির শেষ নেই অন্যদিকে তার শত্রুদের মনেও একটু তৃপ্তি জুগিয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। শত্রুর বিপদে আপনি/আমি সবাই পৈচাশিক আনন্দ পেয়ে থাকি। হোক সেটা প্রকাশ্যে বা নিরবে। অনেকেই খুশি হয়ে বিভিন্ন ভাবে পোস্ট করেছে, কেউ 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে পোস্ট করেছে, কেউ বা বিভিন্ন ভাবে ট্রল করেছে। যদিও আমি বরাবরই এসবের বিরুদ্ধে।
তৃতীয়ত, জাফর ইকবালের হেটার্সদের এহেম উল্লাসে তার ভক্তরা সত্যিই মর্মাহত। তাদের প্রশ্ন- 'ইসলাম কি এসব সাপোর্ট করে নাকি? অন্যের বিপদে 'আলহামদুলিল্লাহ বলা কোন ধরনের ধার্মিকতা? এদের কি মানবতা বলতে কিছু নেই? এরা কি প্রকৃত মুসলিম কিনা? ইসলাম কি আমাদের এসব শিক্ষা দেয়?" আরও কতো ধরনের কথা তা বলে শেষ করা যাবে না যদিও সেসব প্রশ্নগুলোও যুক্তির বাহিরে নয়।
কিন্তু আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন- বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, কোরআনের পাখি, লক্ষ লক্ষ যুবকের আদর্শ কাদের মোল্লা ও মতিউর রজমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার পর আপনাদেরই এই স্যার জাফর ইকবালই যখন মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে উল্লাসে মেতে উঠে ছিলো। তখন কোথায় ছিলো আপনাদের মানবিকতা? কোথায় ছিলো আপনাদের ধার্মিকতা? কোথায় ছিলো এতো দরদ মাখা আবেগ? এখন খুব কষ্ট লাগে তাই না? ঠিক এমনি ভাবে সেই দিন লক্ষ লক্ষ মানুষ চোখের জল ফেলেছিলো। তখন তো কোনো প্রতিবাদ করেন নাই! তখন কোথায় ছিলো আপনাদের এতো মানবতা? ও তখন আপনাদের চেতনা বুঝি ঘুমিয়েছিলো? ওহ ঘুমে থাকলে তো আপনাদের আবার লুঙ্গিই ঠিক থাকে না, মনুষ্যত্ব, মানবিকতা ঠিক থাকবে কিভাবে?
চতুর্থত, আমি একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যই এ হতাহতের পক্ষ্যে নই, ঠিক তেমনই একজন জাফর ইকবাল! যে এদেশের প্রত্যেকটি পাঠ্য বইয়ের পাঠ্যসূচির বিশাল পরিবর্তনে ইসলামকে অবমাননা করার পিছনে বড় অবদান রেখেছে, তার লেখনিতে বরাবরই ইসলাম, নবী'গণ, দাঁড়ি, টুপি, পাঞ্জাবী, হিজাব, নারীদের পর্দা সমূহের অবমাননা করে আসছে! একজন মুসলিম হিসেবে সেই জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে আমার কঠোর অবস্থান এবং পাকাপোক্ত ভাবেই।
পঞ্চমত, কিছু অাপু/ভাইয়াদের দেখলাম তার নামের পাশে আস্তিক ট্যাগ লাগাতে উঠে পরে লেগেছে। আচ্ছা কতটুকু ধর্মীয় জ্ঞানহীন, অন্ধত্ব হলে একটা মানুষ জাফর ইকবালকে আস্তিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। আমি তাকে নাস্তিকও বলবো না। কারণ তার মাঝে নাস্তিকতার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই। নাস্তিক এক জিনিস আর ইসলাম বিদ্বেষী আরেক জিনিস। আপনি মানেন আর না মানেন জাফর ইকবাল একজন ইসলাম বিদ্বেষী। আর এটাও জেনে রাখেন- একজন মুসলিম হিসেবে আমার সামনে যখন কেউ আমার ধর্ম ও নবী'গণদের অবমাননা করে তখন সেই অবমাননা কারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ করা আমার জন্য ফরজ হয়ে যায়। যেহুতো রাষ্ট্রীয় ভাবে এসবের কোনো বিচার করা হয় না। রাষ্ট্রীয় ভাবে এসব কুলাঙ্গারদের মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা, সুশীল, বুদ্ধিজীবী হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
কিছু কিছু আপু/ভাইয়াদের আবার আফসোসের শেষ নেই! এ দেশ তার কাছে ঋণী, তাকে আমরা তার প্রাপ্য সম্মান টুকুও দিতে পারি নাই, দেশ থেকে নাকি এক রত্নকে সরিয়ে ফেলার পায়তারা চলতেছে, একজন নামকরা বৈজ্ঞানিককে অপমান করা হইছে আরও কতো কি ব্লা ব্লা ব্লা,,,,
তাহলে এবার শুনুন, কোরআনের পাখি, বিশ্ব নন্দিত আলেম যার মতো আর একটি মানুষও এ বাংলার মাটিতে নেই, যার ভক্ত শুধু এদেশ নয় বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসলমানের হৃদয়ে তার স্থান, যার যোগ্যতার ধারে কাছেও নেই আপনাদের জাফর ইকবাল সেই মহান নেতা #দেলোয়ার_হোসাইন_সাইদী কে যখন মিথ্যা অপবাদে অন্ধকার জেলের ভিতরে তিলে তিলে মারছে তখন আপনাদের ধার্মিকতা কোথায় ছিলো? দিতে পেরেছেন কি তার প্রাপ্য সম্মান টুকু? ওহ সে তো রাজাকার তাই না? কারণ সে ঐ সব তথাকথিত কুলাঙ্গারদের দাঁত ভাঙ্গা জওয়াব দিতে একটুও পিছ পা হতো না। সাহসিকতার এক দৃষ্টান্ত নেতা। যেখানে জাফর ইকবালের চেয়ে শত গুণ বেশি সাপোর্টারস এই মহান ব্যক্তিটির, আর তাকেই আমরা তার প্রাপ্য সম্মান টুকু দিতে পারলাম সেখানে ৯০% মুসলমানের দেশে কোথাকার কোন ইসলাম বিদ্বেষী জাফর ইকবালের নমো নমো করতেছেন!
সর্বশেষ, তবে সব থেকে যেটা দেখে অবাক হয়েছি তা হলো আপনাদের মূর্খতা! ঘটনার পর পরই জাফর ইকবালের ভক্তরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি দিয়েছে, বেশ ভালো! কিন্তু যেখানে ঘটনার মূল কারণ, কে বা কারা ঘটিয়েছে, এ ঘটনায় কার হস্তক্ষেপ আছে সেটা এখনও পরিষ্কার হলো না! অথচ আপনারা ঘটনার পর পরই সরাসরি এখানেও #ইসলাম কে টেনে এনেছেন! জামাত, শিবির, বিএনপি, মৌলবাজ, জঙ্গিবাদ, দাঁড়ি, টুপি, মাদ্রাসা সবকিছু একেবারে গুলিয়ে ফেলেছেন যা সত্যিই চরম মূর্থতার শামিল। ইদানিং আপনাদের এ মূর্খতার ভাবটা বেশিই দেখা যাচ্ছে- কোনো মন্দিরে ভাংচুর করলে সেখানেও ইসলামকে ট্যাগ লাগিয়ে মৌলবাদীদের টেনে আনছেন, কোনো ইসলাম বিদ্বেষী হামলার শিকার হলে সেখানেও মৌলবাদীদের টেনে আনছেন, কোনো জায়গা জায়গা দাঁড়ি, টুপি ওয়ালা কতৃক কোনো অপকর্ম হলে সেখানেও পুরো মাদ্রাসা, আলেম-ওয়ালা সমাজকে টেনে আনছেন। আর কতো? আর কতো এভাবে নিজের ধর্মটাকে অবমাননা করতে করতে বিশ্ব দরবারে নিজের নিজের ধর্মটাকে কুলষিত করবেন? কবে আপনারা অন্ধকার থেকে আলোর পথ খুঁজে পাবেন? কবে? বেশি কিছু না, শুধু এতোটুকুই মনে রাখবেন- "মৃত্যু আপনার জন্যও অপেক্ষা করতেছে"।
Comments
Post a Comment